গর্ভবতী মায়ের সরকারি ভাতা ২০২৬ বাংলাদেশের প্রান্তিক ও দুস্থ গর্ভবতী মা এবং তাঁদের গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সার্বিক সুরক্ষার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক উদ্যোগ। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং ব্যাপক বিস্তৃত কর্মসূচি হলো “মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি” (Mother and Child Benefit Programme), যা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুনঃ মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন ফি ২০২৬
এই লেখাটিতে ২০২৬ সালের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী গর্ভবতী মায়েদের সরকারি ভাতা সংক্রান্ত সকল প্রয়োজনীয় তথ্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
১. মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি কী?
দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অতীতে পরিচালিত “দরিদ্র গর্ভবতী মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা” এবং “কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা তহবিল” কর্মসূটিকে একীভূত ও আধুনিকায়ন করে সরকার বর্তমানে “মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি” চালু করেছে।
আরও পড়ুনঃ গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার নিয়ম ২০২৬
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো:
- গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে সন্তানের দুই বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টিকর খাবারের জোগান নিশ্চিত করা।
- প্রসবপূর্ব ও প্রসবপরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা নিতে উৎসাহ প্রদান করা।
- মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস করা।
- সুবিধাভোগী মায়েদের সরাসরি তাঁদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট) ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়া।
২. ২০২৬ সালে গর্ভবতী ভাতার পরিমাণ, মেয়াদ ও পরিশোধ পদ্ধতি
গর্ভবতী মায়েদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ভাতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| মাসিক ভাতার পরিমাণ | প্রতি মাসে ৮০০ টাকা |
| ভাতা প্রাপ্তির মোট সময়কাল | ৩ বছর (৩৬ মাস) |
| মোট অনুদানের পরিমাণ | ২৮,৮০০ টাকা |
| অর্থ প্রদানের মাধ্যম | সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং (G2P পদ্ধতি) |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভাতার টাকা নির্দিষ্ট সময় পরপর (সাধারণত ৩ মাস বা ৬ মাস অন্তর) সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

৩. কত মাসের গর্ভবতী হলে ভাতার আবেদন করা যায়?
গর্ভবতী মায়েদের ভাতা আবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সঠিক সময়ে আবেদন সম্পন্ন করা।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই ২০২৬
আবেদনের সময়সীমা: একজন গর্ভবতী মা গর্ভধারণের ৩ মাস (১২ সপ্তাহ) থেকে শুরু করে ৫ মাসের (২০ সপ্তাহ) মধ্যে ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
কেন এই সময়সীমা? গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রি-মাসিক (First Trimester) পার হওয়ার পর সন্তানের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠন শুরু হয় এবং মায়ের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি থাকে। সঠিক সময় আবেদন করলে গর্ভাবস্থার প্রথম দিক থেকেই সরকারি আর্থিক সহায়তা কার্যকর করা সম্ভব হয়।
দেরিতে আবেদনের ঝুঁকি: গর্ভাবস্থা ৬ বা ৭ মাস পেরিয়ে গেলে প্রাথমিক তালিকাভুক্তিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই প্রথম ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে আবেদন সম্পন্ন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. গর্ভবতী ভাতার আবেদন করার যোগ্যতা ও শর্তাবলী ২০২৬
সরকারি মাতৃত্বকালীন বা মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ করতে হবে:
১. জাতীয়তা ও বয়স: আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স সর্বনিম্ন ২০ বছর হতে হবে।
২. দারিদ্র্যসীমা: আবেদনকারীকে দুস্থ, দরিদ্র বা নিম্নআয়ের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।
৩. প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তান: কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে এই ভাতা প্রদান করা হয়। তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।
৪. অন্যান্য সরকারি ভাতা: আবেদনকারী বা তাঁর স্বামী যদি অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার (যেমন: বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি) সুবিধাভোগী হন, তবে এই ভাতা পাওয়া যাবে না।
৫. সরকারি চাকরি: আবেদনকারী বা তাঁর স্বামী সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় কর্মরত থাকলে আবেদনের সুযোগ নেই।
৬. জমির পরিমাণ: গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটা ব্যতীত পরিবারের মালিকানাধীন জমির পরিমাণ নির্দিষ্ট পরিমাণের কম হতে হবে।
১. গর্ভবতী ভাতার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের বিবরণী ২০২৬ (Information Checklist Table)
আবেদন করার পূর্বে নিম্নলিখিত তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে:
| ক্রমিক | প্রয়োজনীয় তথ্য/কাগজপত্র | বিবরণ ও শর্তাবলী |
| ১ | আবেদনকারীর নাম ও তথ্য | জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অনুযায়ী হুবহু সঠিক নাম ও বিবরণ |
| ২ | জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) | আবেদনকারীর নিজের ১০ বা ১৭ ডিজিটের NID নম্বর |
| ৩ | জন্ম নিবন্ধন নম্বর | ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল অনলাইন জন্ম সনদ |
| ৪ | বয়স প্রমানক | আবেদনের সময় বয়স সর্বনিম্ন ২০ বছর হতে হবে |
| ৫ | গর্ভধারণের ডাক্তারের সার্টিফিকেট | গর্ভধারণের সময়কাল (৩ থেকে ৫ মাস/১২–২০ সপ্তাহ) উল্লেখসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স/পৌরসভা/নিবন্ধিত ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট/প্রত্যয়নপত্র |
| ৬ | মোবাইল নম্বর | আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত সচল মোবাইল নম্বর (যা বিকাশ/নগদ/রকেটের সাথে যুক্ত) |
| ৭ | পারিবারিক আয়ের বিবরণ | দরিদ্র বা নিম্নআয়ের পরিবারভুক্ত প্রমাণের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর সনদ |
| ৮ | সন্তানের ক্রম | ১ম বা ২য় গর্ভধারণ প্রমাণের ঘোষণা |
| ৯ | ছবি | সাম্প্রতিক তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি |
২. গর্ভবতী মায়ের সরকারি ভাতা ২০২৬ এর নমুনা আবেদন ফরম
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় / মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর
মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (Mother and Child Benefit Programme)
আবেদন ফরম
ক. আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য
আবেদনকারীর পূর্ণ নাম (বাংলায়): ____________________________________
আবেদনকারীর নাম (ইংরেজিতে): ___________________________________
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর:
[ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ]জন্ম তারিখ:
দিন [ ][ ] / মাস [ ][ ] / বছর [ ][ ][ ][ ]অনলাইন জন্ম নিবন্ধন নম্বর:
[ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ][ ]স্বামীর নাম: __________________________________________________
স্বামীর NID নম্বর: ______________________________________________
পিতার নাম: ___________________________________________________
মাতার নাম: ___________________________________________________
খ. বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
গ্রাম/মহল্লা/রাস্তা: ______________________ ওয়ার্ড নং: ______________
ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন: _________________________________
উপজেলা/থানা: _________________________ জেলা: _________________
গ. স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য (মেডিকেল সার্টিফাইড)
বর্তমান গর্ভধারণের সময়কাল (সপ্তাহ/মাস):
[ ]মাস /[ ]সপ্তাহসন্তানের সংখ্যা (বর্তমান গর্ভস্থ সন্তানসহ):
[ ]১ম সন্তান /[ ]২য় সন্তানসম্ভাব্য প্রসবের তারিখ (EDD):
দিন [ ][ ] / মাস [ ][ ] / বছর [ ][ ][ ][ ]প্রত্যয়নকারী ডাক্তার/স্বাস্থ্যকর্মীর নাম ও পদবী:————-
ঘ. অর্থ প্রাপ্তির মোবাইল Banking/ব্যাংক বিবরণী
মোবাইল ব্যাংকিং সেবা/ব্যাংকের নাম:
[ ]বিকাশ[ ]নগদ[ ]রকেট[ ]ব্যাংক অ্যাকাউন্টমোবাইল নম্বর / অ্যাকাউন্ট নম্বর: ————
অ্যাকাউন্টধারীর নাম (NID অনুযায়ী):———–
ঙ. আবেদনকারীর অঙ্গীকারনামা
আমি অঙ্গীকার করছি যে, উপরে উল্লেখিত সকল তথ্য সত্য ও সঠিক। আমি বা আমার স্বামী অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধা বা ভাতা গ্রহণ করছি না। প্রদত্ত তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমার আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং গৃহীত অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকিব।
আবেদনকারীর স্বাক্ষর / টিপসই: ————
তারিখ: [ ][ ] / [ ][ ] / [ ][ ][ ][ ]
চ. স্থানীয় জনপ্রতিনিধি/অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সুপারিশ (অফিসিয়াল অংশ)
সত্যায়িত করা যাচ্ছে যে, উপরোক্ত আবেদনকারী আমাদের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং তিনি দরিদ্র/নিম্নআয়ের পরিবারভুক্ত। তাঁর আবেদনটি “মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি” ভাতার জন্য সুপারিশ করা হলো।
চেয়ারম্যান / মেয়র / কাউন্সিলরের স্বাক্ষরঃ———-
৬. আবেদন করার সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি
বর্তমানে এই ভাতার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও ডিজিটাল করা হয়েছে।
ক. অনলাইন আবেদন পদ্ধতি
১. মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে (যেমন: MOWCA / DWA পোর্টাল) প্রবেশ করতে হবে।
২. “মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি” সেকশনে গিয়ে নতুন নিবন্ধনে ক্লিক করুন।
৩. আবেদনের ফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, গর্ভধারণের সময়কাল (মাস) এবং ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও গর্ভবতী হওয়ার ডাক্তারি সার্টিফিকেট আপলোড করুন।
৫. তথ্য পুনর্নিরীক্ষণ করে ফর্ম সাবমিট করুন এবং আবেদনপত্রের কপি প্রিন্ট করে রাখুন।
খ. অফলাইন আবেদন পদ্ধতি
১. আপনার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে গিয়ে তথ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
২. উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যায়।
৩. ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করে স্বাস্থ্য সনদসহ সকল সনদের ফটোকপি সংযুক্ত করে জমা দিন।
৭. সুবিধাভোগী নির্বাচন ও ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া
আবেদন জমা দেওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সুবিধাভোগী তালিকা তৈরি করা হয়:
১. প্রাথমিক যাচাই-বাছাই: স্থানীয় কমিটি বা তথ্যসেবা কেন্দ্র আবেদনপত্র ও সংযুক্ত ডকুমেন্টস পরীক্ষা করে।
২. মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন: প্রয়োজনে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী বা তথ্য সংগ্রহকারী পরিবার পরিদর্শন করে তথ্য যাচাই করেন।
৩. অনুমোদন: উপজেলা বা জেলা পর্যায়ের কমিটি চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করে।
৪. G2P সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তি: অনুমোদিত মায়েদের তথ্য সরকারি G2P (Government to Person) অর্থ প্রদেয় সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে প্রতি নির্ধারিত মেয়াদে সরাসরি টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যায়।
৮. সুবিধাভোগী মায়েদের দায়িত্ব ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
কেবল টাকা গ্রহণ করাই শেষ কথা নয়; সরকারি ভাতা সফলভাবে বজায় রাখতে এবং একটি সুস্থ সন্তান প্রসবের জন্য সুবিধাভোগী মাকে কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়:
নিয়মিত ANC চেকআপ: গর্ভাবস্থায় কমপক্ষে ৪ বার নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা (Antenatal Care) করাতে হবে।
টিটেনাস (TT) টিকা গ্রহণ: সময়মতো টিটেনাস প্রতিষেধক টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ: প্রাপ্ত ভাতার অর্থ দিয়ে ডিম, দুধ, ফলমূল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত আয়রন-ফোলেট সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানিক প্রসব: ঝুঁকিমুক্ত প্রসবের জন্য নিকটস্থ সরকারি বা নিবন্ধিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রসব করানোর পরিকল্পনা রাখা উচিত।
৯. যেকোনো সমস্যা বা তথ্যের জন্য যোগাযোগ
ভাতা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ, আবেদন স্থিতি জানতে বা সহায়তার জন্য নিম্নোক্ত মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে:
স্থানীয় কার্যালয়: আপনার নিজ এলাকার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি: ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/সদস্য বা পৌরসভা কাউন্সিলর।
সরকারি হেল্পলাইন: জাতীয় তথ্য ও সেবা কল সেন্টার ৩৩৩ বা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট হটলাইন নম্বর।
১০. ১০টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. কত মাসের গর্ভবতী হলে সরকারি ভাতার জন্য আবেদন করা যাবে?
উত্তর: গর্ভধারণের ৩ মাস (১২ সপ্তাহ) থেকে ৫ মাসের (২০ সপ্তাহ) মধ্যে ভাতার আবেদন করতে হয়।
২. গর্ভবতী মায়ের সরকারি ভাতার পরিমাণ কত?
উত্তর: ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে মোট ৩ বছর (৩৬ মাস) ভাতা প্রদান করা হয়।
৩. ৩য় সন্তানের ক্ষেত্রে কি এই ভাতা পাওয়া যাবে?
উত্তর: না, এই ভাতা শুধুমাত্র প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৪. ভাতার টাকা কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর: ভাতার টাকা সরাসরি সুবিধাভোগী মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন: বিকাশ, নগদ) অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
৫. আবেদন করার জন্য ডাক্তারী সার্টিফিকেট কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: হ্যাঁ, আবেদনকারী যে গর্ভবতী এবং কত মাসের গর্ভবতী, তার প্রমাণ হিসেবে সরকারি বা নিবন্ধিত ডাক্তারের সত্যায়ন সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
৬. প্রবাসীদের স্ত্রীরা কি এই ভাতার আবেদন করতে পারবেন?
উত্তর: প্রবাসীদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও স্থানীয় কমিটির জরিপের ওপর ভিত্তি করে যদি পরিবারটি দুস্থ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে নিয়মানুসারে বিবেচনা করা হতে পারে।
৭. আবেদন করার পর কত দিনের মধ্যে ভাতার টাকা পাওয়া যায়?
উত্তর: আবেদন মঞ্জুর ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হতে ২ থেকে ৩ মাস সময় লাগতে পারে। অনুমোদনের পর পরবর্তী অর্থপ্রদানের কিস্তিতে টাকা জমা হয়।
৮. স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে কি আবেদন করা যাবে?
উত্তর: আবেদনকারীর নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে স্বামীর তথ্য প্রদান জরুরি হতে পারে।
৯. শহর অঞ্চলের গর্ভবতী মায়েরা কি এই সুবিধা পাবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি পৌরসভার ও সিটি কর্পোরেশনের নিম্নআয়ের মায়েরা নির্ধারিত কোটা ও নিয়ম অনুযায়ী এই ভাতা পেয়ে থাকেন।
১০. ভাতা বন্ধ হয়ে গেলে করণীয় কী?
উত্তর: নির্ধারিত সময়ের আগে ভাতা বন্ধ হলে বা টাকা না আসলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
উপসংহার
গর্ভবতী মায়ের সরকারি ভাতা ২০২৬ স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং গর্ভস্থ শিশুর সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের “মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি” এর একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকরী পদক্ষেপ। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে বিশেষ করে ৩ থেকে ৫ মাসের মধ্যে সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের মায়েরা গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে সন্তানের ২ বছর বয়স পর্যন্ত এই আর্থিক সহায়তার সুফল পেতে পারেন।
একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে মা ও শিশুর শারীরিক পুষ্টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তাই যোগ্য ও দুস্থ গর্ভবতী মায়েরা যেন সঠিক সময়ে এই ভাতা ও স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। shikkhatech24.com ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য , প্রযুক্তি, টেক আপডেট, এসএসসি ও এইচএসসি সাজেশন, চাকরির খবর, উদ্যোক্তা, খাবার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে নিত্যনতুন তথ্য জানতে ওয়েবসাইটটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।
