নবম পে স্কেলে পে-ফিক্সেশন ২০২৬ এর আইবাস++ ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়বাংলাদেশ সরকারের সিভিল সার্ভিসের ইতিহাসে আর্থিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ এবং শতভাগ ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে পদার্পণের পথে একটি অন্যতম যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলো আইবাস++ (iBAS++)। চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ জারি করার পর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাদি আহরণকারী সর্বস্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশন (Pay Fixation) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই জটিল এবং বিশাল ডিজিটাল রূপান্তর প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত, নিরাপদ ও সুনির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ব্যাপক অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুনঃ Online Pay Fixation 2026 | iBAS++ Pay Fixation ও অনলাইনে পে ফিক্সেশন করার নিয়ম
আইবাস++ (Integrated Budget and Accounting System) সিস্টেমে ২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেল ফিক্সেশনের সময় যেন কোনো প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হয়, সে উদ্দেশ্যেই মূলত অর্থ বিভাগের স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (SPFMS) এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (CGA) কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
পে-ফিক্সেশন ২০২৬ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ উদ্যোগ
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আইনগত ভিত্তি তৈরির পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রত্যেক কর্মচারীর কর্মজীবনের ইতিহাস, বর্তমান ধাপ, পদোন্নতি, টাইমস্কেল, সিলেকশন গ্রেড এবং ইনক্রিমেন্ট বিবেচনা করে নতুন স্কেলে তাঁর মূল বেতন কত হবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা।
আরও পড়ুনঃ নবম জাতীয় পে-স্কেল
পূর্বে এই কাজগুলো ম্যানুয়ালি বা কাগজে-কলমে সার্ভিস বুক (Service Book) যাচাইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হতো, যাতে প্রচুর সময় লাগত এবং ভুলের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি ছিল। ২০১৫ সালের পর থেকে ডিজিটাল আইবাস++ পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইন পে-ফিক্সেশনের ধারণা সূচিত হয়। ২০২৬ সালের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের ক্ষেত্রে পদ্ধতিটিকে আরও অত্যাধুনিক, এনআইডি সংকেত-সুরক্ষিত এবং স্বয়ংক্রিয় ফিক্সেশন ফর্মুলাভিত্তিক করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় অনুধাবন করেছে যে-
- সারা দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও মাঠ পর্যায়ের দপ্তরের হাজার হাজার চিফ একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার (CAFO), ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার (DAFO), উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার (UAO) এবং ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের (DDO) নতুন সফটওয়্যার সাব-সিস্টেম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
- ভুল পে-ফিক্সেশনের কারণে পরবর্তীতে অতিরিক্ত বেতন উত্তোলন হলে তা ফেরত দেওয়া বা অডিট আপত্তির মুখমুখী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- কারিগরি জটিলতা কমানো এবং সার্ভার লোড সামলানোর নিয়মাবলি মাঠ পর্যায়ে পৌঁছানো অপরিহার্য।
এই লক্ষ্য অর্জনে অর্থ বিভাগ আইবাস++ এর ‘Pay Fixation Sub-system’-এর ওপর প্রশিক্ষণ কর্মশালা আহ্বান করে সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
আইবাস++ (iBAS++) কি এবং পে-ফিক্সেশনে এর ভূমিকা
আইবাস++ হলো বাংলাদেশ সরকারের অর্থ বিভাগের একটি সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে সরকারের সম্পূর্ণ আর্থিক লেনদেন, বাজেট প্রণয়ন, বরাদ্দ বণ্টন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান এবং পেনশন ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুনঃ নবম পে স্কেলের মুল বেতন ও অন্যান্য সুবিধা
পে-ফিক্সেশনে আইবাস++ এর প্রধান কাজসমূহ:
১. স্বয়ংক্রিয় স্কেল ও ধাপ নির্ধারণ: এনআইডি ও মূল বেতনের তথ্য প্রদান করলে সিস্টেম নতুন স্কেলের সমতুল্য বা সঠিক ধাপে মূল বেতন নিজে থেকেই নির্ধারণ করে দেয়।
২. এনআইডি এবং ই-জিপি/ই-সার্ভিস লিঙ্কআপ: নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের সাথে এনআইডি ও জন্মতারিখ মিলিয়ে ভুয়া ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য প্রতিরোধ করা হয়।
৩. ইলেকট্রনিক পে ফিক্সেশন বিবরণী তৈরি: পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হলে কিউআর কোড যুক্ত একটি অফিসিয়াল ই-ফিক্সেশন সার্টিফিকেট তৈরি হয়, যা সেবা বইতে বা সার্ভিস ফাইলে সংরক্ষিত থাকে।
৪. ডিডিওর নিকট অনলাইন সাবমিশন: পে-ফিক্সেশনের আবেদন প্রস্তুত করে সরাসরি ডিডিওর আইবাস++ ড্যাশবোর্ডে প্রেরণের সুব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির রূপরেখা
অর্থ বিভাগের এসপিএফএমএস (SPFMS) কর্মসূচির নির্দেশনায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেশব্যাপী আইবাস++ অনলাইন পে-ফিক্সেশন প্রশিক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন আর্থিক প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মীগণ।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণে অগ্রাধিকার প্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ:
- প্রধান হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা (CAFO): সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের হিসাব সমন্বয়কারী।
- ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার (DCA/DAFO): জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হিসাব নিয়ন্ত্রক।
- উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (UAO): উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বেতন ও পে-ফিক্সেশন অনুমোদনকারী।
- আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা (DDO): বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, থানা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কার্যালয়ের প্রধান ও প্রশাসনিক বিল প্রস্তুতকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
- কম্পিউটার অপারেটর ও ডাটা এন্ট্রি স্টাফ: যারা মাঠ পর্যায়ে পে-ফিক্সেশনের ডাটা ইনপুট ও প্রক্রিয়াকরণের মূল কাজ সম্পাদন করবেন।
প্রশিক্ষণের মূল মডিউলসমূহ:
নতুন পে-আদেশ ও নীতিগত দিক নির্দেশনা: চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর অনুচ্ছেদ এবং আইনি বিধান স্পষ্টীকরণ।
আইবাস++ সিস্টেমে ব্যবহারকারী লগইন ও ওটিপি ভেরিফিকেশন: এনআইডি, মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি (OTP) ব্যবস্থাপনার সঠিক কৌশল।
ধাপে ধাপে ফিক্সেশন ফর্ম পূরণ: গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কর্মীদের জন্য পৃথক অনলাইন ফর্ম পূরণের ব্যবহারিক দিক।
বকেয়া (Arrears) স্বয়ংক্রিয় হিসাব: ধাপে ধাপে কার্যকর করার কারণে পে-ফিক্সেশন পরবর্তী সময়ের বকেয়া হিসাব কীভাবে স্বয়ংক্রিয় বিল প্রস্তুত করবে তার বিবরণ।
জটিলতা সমাধান ও ডেটা সংশোধন (Data Conversion): পুরাতন এনআইডি থেকে নতুন এনআইডিতে রূপান্তর বা ডাটা অমিলের সমস্যার সমাধান।
আইবাস++ পোর্টালে অনলাইন পে-ফিক্সেশন ২০২৬: ধাপভিত্তিক নির্দেশিকা
নতুন পে-স্কেলে কর্মচারীরা কীভাবে তাদের পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করবেন, তার একটি স্পষ্ট সার্বিক গাইডলাইন অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনায় উপস্থাপন করা হয়েছে:
| ধাপ নম্বর | কাজের বিবরণ | প্রয়োজনীয় তথ্য/নথি |
| ধাপ ০১ | আইবাস++ এর ফিক্সেশন পোর্টালে প্রবেশ | আইবাস++ পোর্টাল লিঙ্ক |
| ধাপ ০২ | টাইপ ও সম্মতি নির্বাচন | ‘Fixation 2026’ নির্বাচন ও অনলাইন শর্তাবলীতে সম্মতি প্রদান |
| ধাপ ০৩ | ব্যবহারকারীর তথ্য যাচাই | জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID), জন্মতারিখ ও ক্যাপচা |
| ধাপ ০৪ | মোবাইল ওটিপি যাচাইকরণ | পে-ফিক্সেশন পোর্টালে নিবন্ধিত মোবাইলে প্রেরিত ওটিপি প্রদেয় |
| ধাপ ০৫ | চাকরির বিবরণ ইনপুট/যাচাই | বর্তমান স্কেল, স্কেলের ধাপ, শেষ ইনক্রিমেন্টের তারিখ ও পোস্ট বিবরণী |
| ধাপ ০৬ | স্বয়ংক্রিয় স্কেল গণনাকরণ | সিস্টেম কর্তৃক স্বয়ংক্রিয় ২০২৬ পে-স্কেলের নতুন মূল বেতন প্রদর্শন |
| ধাপ ০৭ | DDO বরাবর অনলাইন সাবমিশন | প্রস্তুতকৃত ফিক্সেশন শীট আবেদনকারীর ডিডিওর কাছে প্রেরণ |
| ধাপ ০৮ | হিসাবরক্ষণ অফিসের চূড়ান্ত অনুমোদন | UAO/DAFO/CAFO থেকে ডিজিটাল সত্যায়ন ও পে-ফিক্সেশন সার্টিফিকেট প্রদান |
জরুরি টিপস: গেজেটেড কর্মকর্তারা তাদের নিজস্ব আইবাস++ ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সরাসরি লগইন করবেন। অপরদিকে, নন-গেজেটেড কর্মচারীরা তাদের এনআইডি নম্বর এবং জন্মতারিখ দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে অনলাইন আবেদন জমা দেবেন।
২০২৬ সালের পে-ফিক্সেশনের বিশেষ ফিচার ও হিসাবের পদ্ধতি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নতুন নিয়মাবলি ও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে পে-ফিক্সেশন ২০২৬ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু কারিগরি বিষয় যুক্ত করা হয়েছে:
১. বকেয়া (Arrears) স্বয়ংক্রিয় অ্যাডজাস্টমেন্ট
নতুন পে-স্কেলের আইনি কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধরা হলেও প্রশাসনিক এবং সফটওয়্যার পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে নির্দিষ্ট কিছুদিন সময় লাগে। আইবাস++ এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যে—যখন পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া অনুমোদন লাভ করবে, তখন ১ জুলাই ২০২৬ থেকে অনুমোদনের তারিখ পর্যন্ত সময়ের পুরাতন হার ও নতুন প্রাপ্ত হারের পার্থক্যের বকেয়া টাকা আইবাস++ সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে পে-বিলে যুক্ত করে দেবে।
২. ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন ও ইনক্রিমেন্ট ক্যালকুলেটর
অর্থ মন্ত্রণালয় জারিকৃত চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ অনুসারে যদি বাস্তবায়ন ধাপভিত্তিক হয়, তবে আইবাস++ সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ধাপে কার্যকর হারের হিসাব নির্ধারণ করে দেবে। কর্মচারীদের ম্যানুয়ালি গাণিতিক হিসাব বা ইনক্রিমেন্ট হিসাব করতে হবে না।
৩. এনআইডি সংশোধন বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিয়মাবলি
২০১৫ সালের পে-ফিক্সেশনের সময় যে এনআইডি (১৩/১৭ ডিজিটের বা স্মার্ট কার্ড) ব্যবহার করা হয়েছিল, ২০২৬ সালের আইবাস++ পে-ফিক্সেশনেও সেই একই এনআইডি ব্যবহার করতে হবে। যদি ইতিমধ্যে কোনো কর্মচারী নতুন স্মার্ট কার্ড পেয়ে থাকেন এবং নম্বর পরিবর্তিত হয়ে থাকে, তবে উপজেলা/জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের মাধ্যমে পুরাতন এনআইডি ডেটা আইবাস++ পোর্টালে সংশোধন বা ‘এনআইডি কনভার্ট’ করিয়ে নিতে হবে।
পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য সমস্যা ও প্রশিক্ষণে অর্জিত সমাধান
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য কারিগরি সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের কৌশল শেখানো হচ্ছে।
সমস্যা ১: আইবাস++ এ এনআইডি এবং জন্মতারিখ মিলছে না (NID & DOB Mismatch)
- কারণ: ২০১৫ সালে প্রদত্ত তথ্য অথবা নির্বাচন কমিশনের এনআইডি ডাটাবেজের সাথে সার্ভিস রেকর্ড বা আইবাস++ এ পূর্বের নিবন্ধিত এনআইডির অমিল।
- প্রশিক্ষণে নির্দেশিত সমাধান: সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে অবিলম্বে তাঁর নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা (DDO)-এর সুপারিশসহ হিসাবরক্ষণ অফিসে (UAO/DAFO) লিখিত আবেদন করতে হবে এবং আইবাস++ পোর্টালে ডাটা আপডেট করে নিতে হবে।
সমস্যা ২: নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ওটিপি (OTP) না আসা
- কারণ: দীর্ঘদিন সিম বন্ধ থাকা, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন হওয়া অথবা নেটওয়ার্ক জনিত বিলম্ব।
- প্রশিক্ষণে নির্দেশিত সমাধান: DDO লগইন প্যানেল থেকে উক্ত কর্মচারীর মোবাইল নম্বর সংশোধন করে নিতে হবে। প্রয়োজনে টেলিকম অপশন পুনর্নির্বাচন করে পুনরায় চেষ্টা করতে হবে।
সমস্যা ৩: ইনক্রিমেন্ট ও সিলেকশন গ্রেড সংক্রান্ত জটিলতা
- কারণ: চাকরির মেয়াদে পদোন্নতি, টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত হলেও তা পূর্বের আইবাস++ ডেটাবেজে আপডেট না থাকা।
- প্রশিক্ষণে নির্দেশিত সমাধান: পে-ফিক্সেশন করার আগেই পূর্ববর্তী পে-স্কেলের সমস্ত বকেয়া ইনক্রিমেন্ট ও সার্ভিস তথ্য আইবাস++ ডাটাবেজে সঠিক ও হালনাগাদ করা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য সাধারণ সুপারিশ ও সতর্কতা
অর্থ মন্ত্রণালয় এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে সাধারণ কর্মচারীদের সচেতনতামূলক বেশ কিছু বার্তা প্রদান করা হয়েছে:
১. প্রতারণা থেকে দূরে থাকুন: আইবাস++ সংক্রান্ত পে-ফিক্সেশনের জন্য কোনো অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ, ফেইসবুক গ্রুপ বা লিঙ্কে আপনার ব্যক্তিগত এনআইডি, সার্ভিস তথ্য বা মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপি শেয়ার করবেন না।
২. অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করুন: সর্বদা শুধুমাত্র সরকারি নিবন্ধিত iBAS++ Official Portal-এ প্রবেশ করে নিজ বা অফিসের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।
৩. নথি প্রস্তুত রাখুন: অনলাইন ফিক্সেশন করার পূর্বে মূল সার্ভিস বুক (Service Book), ২০১৫ সালের ফিক্সেশন কপি, সর্বশেষ ইনক্রিমেন্টের কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র হাতের কাছে রাখুন।
৪. ডিডিওর সহায়তা নিন: যেকোনো জটিলতায় নিজ কার্যালয়ের প্রধান বা ডিডিওর (DDO) সাহায্য গ্রহণ করুন এবং তারা সমন্বয় করে স্থানীয় হিসাবরক্ষণ অফিসের সহায়তা গ্রহণ করবেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প থেকে অর্থ বিভাগের স্মার্ট ক্যাশলেস পে-সিস্টেম
অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক আইবাস++ ব্যবহারের এই নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং অনলাইন পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন মূলত সরকারি আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পূর্বে যেখানে পে-স্কেলের ফিক্সেশন করতেই বছর গড়িয়ে যেত এবং শত শত ভুলত্রুটি সংশোধনে প্রশাসনিক সময় অপচয় হতো, সেখানে আইবাস++ এর ‘Pay Fixation Sub-system’-এর সুবাদে এখন কয়েক ক্লিকেই নির্ভুলভাবে কোটি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-ফিক্সেশন সম্ভব হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন ভিত্তিক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি মাঠ পর্যায় পর্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হলে কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত নবম পে-স্কেলের সুফল ভোগ করতে পারবেন।
সাধারণ প্রশ্নাবলী (FAQ Section)
প্রশ্ন ১: নবম পে স্কেলে পে-ফিক্সেশন করার জন্য কোন ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে?
উত্তর: অর্থ বিভাগের তৈরি আইবাস++ পোর্টালে (ibas.finance.gov.bd/login) প্রবেশ করে ‘Fixation 2026’ অপশন বেছে নিয়ে অনলাইন ফিক্সেশন সম্পন্ন করা যাবে।
প্রশ্ন ২: আইবাস++ এ পে-ফিক্সেশনের সময় মোবাইল নম্বরে OTP না আসলে কি করণীয়?
উত্তর: নিবন্ধিত মোবাইল বন্ধ থাকলে বা নম্বর পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের DDO (আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা) প্যানেল থেকে নম্বর হালনাগাদ করতে হবে।
প্রশ্ন ৩: NID ও জন্মতারিখের তথ্যে অমিল দেখা দিলে কীভাবে সমাধান করা যাবে?
উত্তর: সার্ভিস রেকর্ড ও NID তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে সার্ভিস বুকের কপি সহ নিজ উপজেলা/জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে (UAO/DAFO) আবেদন করে তথ্য সংশোধন করাতে হবে।
প্রশ্ন ৪: নন-গেজেটেড কর্মচারীরা কি নিজেরা সরাসরি পে-ফিক্সেশন করতে পারবেন?
উত্তর: নন-গেজেটেড কর্মচারীরা নিজস্ব NID ও জন্মতারিখ দিয়ে পোর্টালে ডাটা সাবমিট করবেন, যা পরবর্তীতে তাদের DDO এবং হিসাবরক্ষণ অফিস যাচাইপূর্বক অনুমোদন করবে।
উপসংহার
আইবাস++ (iBAS++) পোর্টালে অনলাইন পে-ফিক্সেশন প্রক্রিয়া চালু করা এবং এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক পেশাদার প্রশিক্ষণ প্রদান উভয়ই সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে গতিশীল ও স্বচ্ছ করতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। অতীতে নতুন বেতন স্কেল ঘোষণার পর ম্যানুয়ালি সার্ভিস বুক যাচাই, হিসাবের ভুলভ্রান্তি এবং দীর্ঘসূত্রতার যে সংস্কৃতি ছিল, এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ নিরসন সম্ভব হবে।
অর্থ বিভাগের এই সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ফলে সরকারি দপ্তরের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তা (DDO) এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের কর্মীরা কারিগরি দিক থেকে যেমন স্বাবলম্বী হবেন, তেমনি সাধারণ কর্মচারীরাও কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী বা হয়রানি ছাড়াই নির্ভুলভাবে তাদের নতুন স্কেলের পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। সর্বোপরি, এই ধরনের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক পদক্ষেপ বাংলাদেশের সরকারি খাতকে কেবল কাগজমুক্ত ও ডিজিটালাইজডই করবে না, বরং একটি দক্ষ ও স্মার্ট প্রশাসনিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। shikkhatech24.com ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম। শিক্ষা, স্বাস্থ্য , প্রযুক্তি, টেক আপডেট, এসএসসি ও এইচএসসি সাজেশন, চাকরির খবর, উদ্যোক্তা, খাবার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে নিত্যনতুন তথ্য জানতে ওয়েবসাইটটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।
