ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড : অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোডের নিয়ম (আপডেট ২০২৬)

ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড বা অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সহজ ও সঠিক নিয়ম জানুন। স্লিপ নম্বর বা এনআইডি নম্বর দিয়ে ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে স্মার্ট কার্ড পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করুন। কারন বাংলাদেশে শিক্ষা, চাকরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট আবেদন, জমি রেজিস্ট্রি কিংবা দৈনন্দিন যেকোনো প্রশাসনিক কাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নথি হলো জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card)। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও নাগরিক-বান্ধব করেছে।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের পদ্ধতি ২০২৬

এখন আর নতুন ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করা বা হারিয়ে যাওয়া কার্ড নতুন করে তোলার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয় না। ঘরে বসে আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টালে ভিজিট করে কয়েক মিনিটেই আপনার এনআইডি কার্ডের কালার অনলাইন পিডিএফ (PDF) কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

এই নিবন্ধে ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী কীভাবে অনলাইন থেকে আপনার ভোটার আইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন, তার ধাপে ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

পোস্ট সূচিপত্র

১. NID Card ডাউনলোড করার পূর্বশর্তসমূহ

অনলাইন থেকে সফলভাবে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে হলে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে তৈরি রাখতে হবে। নিচে প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা দেওয়া হলো:

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই ২০২৬

  1. এনআইডি নম্বর বা ফর্ম/স্লিপ নম্বর: আপনার যদি পুরাতন ১০ বা ১৭ ডিজিটের এনআইডি নম্বর থাকে, তবে সেটি। আর যদি আপনি নতুন ভোটার হয়ে থাকেন, তবে নিবন্ধন করার সময় আপনাকে দেওয়া ভোটার নিবন্ধন স্লিপের নম্বরটি (Form Number) প্রয়োজন হবে।

  2. সঠিক জন্ম তারিখ: ভোটার হওয়ার সময় আপনার জন্মসনদ বা এসএসসি সনদ অনুযায়ী যে জন্ম তারিখ দিয়েছিলেন, সেটি (দিন-মাস-বছর ফরম্যাটে)।

  3. সঠিক ঠিকানা: ভোটার ফরমে যে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা (বিভাগ, জেলা, উপজেলা/থানা) উল্লেখ করেছিলেন, সেগুলোর সঠিক তথ্য।

  4. সক্রিয় মোবাইল নম্বর: ওটিপি (OTP – One Time Password) বা ভেরিফিকেশন কোড পাওয়ার জন্য একটি সচল মোবাইল নম্বর।

  5. স্মার্টফোন ও NID Wallet অ্যাপ: মুখমণ্ডলের বায়োমেট্রিক বা ফেস ভেরিফিকেশনের (Face Verification) জন্য গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে নামানো NID Wallet App।

  6. ইন্টারনেট সংযোগ ও PDF Viewer: ওয়েবসাইট ব্যবহার ও ডাউনলোডের জন্য পর্যাপ্ত ডেটা বা ওয়াইফাই এবং ডাউনলোড করা কপি দেখার জন্য যেকোনো সাধারণ পিডিএফ রিডার অ্যাপ।

২. স্লিপ নম্বর বা এনআইডি নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টাল services.nidw.gov.bd থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে হলে প্রথমে পোর্টালে আপনার একটি প্রোফাইল তৈরি বা অ্যাকাউন্ট ক্লেইম (Claim Account) করতে হয়।

ধাপে ধাপে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন ও কার্ড ডাউনলোডের নিয়ম নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

ধাপ ১: নির্বাচন কমিশন পোর্টাল এক্সেস করা

  • প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবাসাইট services.nidw.gov.bd-এ প্রবেশ করুন।
  • হোমপেজে থাকা “রেজিস্ট্রেশন করুন” অথবা “অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার” লিংকে ক্লিক করুন।

ধাপ ২: ফর্ম নম্বর / এনআইডি ও জন্ম তারিখ প্রদান

  • আপনার যদি এনআইডি নম্বর থাকে, তবে নির্ধারিত ঘরে তা লিখুন।
  • যদি আপনি নতুন ভোটার হন এবং শুধু স্লিপ নম্বর থাকে, তবে স্লিপ নম্বরের আগে কোনো স্পেস না দিয়ে ইংরেজিতে বড় হাতের অক্ষরে NIDFN যোগ করে আপনার ৮ ডিজিটের ফর্ম নম্বরটি লিখুন (উদাহরণ: NIDFN12345678)।
  • এর নিচের ঘরে আপনার জন্ম তারিখ সঠিকভাবে সিলেক্ট করুন।
  • স্ক্রিনে দেখানো ক্যাপচা (Captcha) কোডটি ফাঁকা ঘরে সঠিকভাবে টাইপ করে ‘সাবমিট’ বাটনে চাপ দিন।

ধাপ ৩: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিতকরণ

  • পরবর্তী স্ক্রিনে আপনাকে ভোটার ফরম পূরণের সময় ব্যবহৃত বর্তমান ঠিকানা (বিভাগ, জেলা, উপজেলা) এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন করতে বলা হবে।
  • সঠিক তথ্য নির্বাচন করে ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করুন। (মনে রাখবেন: ভুল ঠিকানা ৩ বারের বেশি দিলে নিরাপত্তা স্বার্থে আইডি লক হয়ে যেতে পারে)।

ধাপ ৪: মোবাইল নম্বর ওটিপি ভেরিফিকেশন

  • এই ধাপে আপনার প্রাথমিক নিবন্ধনে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি প্রদর্শিত হবে।
  • যদি নম্বরটি সচল থাকে তবে ‘বার্তা পাঠান’ বাটনে চাপুন। (নম্বর পরিবর্তন করতে চাইলে ‘মোবাইল পরিবর্তন’ সিলেক্ট করে নতুন নম্বর যুক্ত করতে পারেন)।
  • আপনার মোবাইলে আসা ৬ ডিজিটের ওটিপি কোডটি (OTP) নির্ধারিত স্থানে বসিয়ে ‘বহালে’ ক্লিক করুন।

ধাপ ৫: NID Wallet দিয়ে ফেস ভেরিফিকেশন (Face Verification)

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন এখন মুখের অবয়ব স্ক্যান বা ফেস ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করেছে।

আরও পড়ুনঃ মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন ফি ২০২৬

  • আপনার স্ক্রিনে একটি QR Code ফুটে উঠবে।
  • আপনার স্মার্টফোনে গুগল প্লে স্টোর থেকে NID Wallet নামের অফিশিয়াল অ্যাপটি ইনস্টল করে ওপেন করুন।
  • অ্যাপটি খুলে কিউআর কোডটি স্ক্যান করুন।
  • ক্যামেরার সামনে সোজা হয়ে দাঁড়ান। প্রথমে সোজা হয়ে তাকান, তারপর মাথা কিছুটা বাঁয়ে ও পরে ডানে ঘোরাতে হবে।
  • ফেস ভেরিফিকেশন সফল হলে স্ক্রিনে টিক চিহ্ন দেখাবে এবং ওয়েবসাইটটি অটোমেটিক রিফ্রেশ হয়ে আপনার প্রোফাইলে নিয়ে যাবে।

ধাপ ৬: পাসওয়ার্ড সেট ও প্রোফাইলে প্রবেশ

  • ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর আপনাকে একটি ইউজারনেম ও সিকিউর পাসওয়ার্ড সেট করতে বলা হবে।
  • পরবর্তীতে সরাসরি লগইন করার সুবিধার্থে পাসওয়ার্ড সেট করে নিতে পারেন, অথবা সময় বাঁচাতে ‘এড়িয়ে যান’ বাটনে ক্লিক করতে পারেন।

ধাপ ৭: এনআইডি কার্ডের PDF ডাউনলোড

  • প্রোফাইল ড্যাশবোর্ডে প্রবেশের পর আপনি আপনার নাম, ছবি ও যাবতীয় তথ্য দেখতে পাবেন।
  • পেইজের নিচের দিকে এলে “ডাউনলোড” বা “জাতীয় পরিচয়পত্র ডাউনলোড” নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন।
  • এতে ক্লিক করলেই আপনার কাঙ্ক্ষিত রঙিন এনআইডি কার্ডটির একটি অফিসিয়াল পিডিএফ ফাইল ডিভাইসে সেভ হয়ে যাবে।

৩. NID Card অনলাইন কপির আইনি বৈধতা ও গ্রহণযোগ্যতা

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে অনলাইন থেকে প্রাপ্ত এই পিডিএফ ডাউনলোড কপি দিয়ে কি সরকারি-বেসরকারি কাজ চালানো সম্ভব?

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পোর্টালে ডাউনলোড করা জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কালার কপি ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত এবং শতভাগ আইনিভাবে বৈধ।

বিবরণঅনলাইন এনআইডি কপি (PDF)অরিজিনাল প্লাস্টিক/স্মার্ট কার্ড
প্রাপ্তির মাধ্যমওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড ও প্রিন্টউপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে বিতরণ
প্রিন্ট ফরম্যাটফটো পেপারে কালার প্রিন্ট ও লেমিনেটিংপ্লাস্টিক বা চিপযুক্ত চিপ-কার্ড
আইনি গ্রহণযোগ্যতা১০০% বৈধ ও সকল কাজে ব্যবহারযোগ্য১০০% বৈধ ও সকল কাজে ব্যবহারযোগ্য
ব্যবহারের ক্ষেত্রব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সিম ক্রয়, পাসপোর্ট ইত্যাদিব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সিম ক্রয়, পাসপোর্ট ইত্যাদি

ডাউনলোড করা পিডিএফ কপিটি একটি ফটো পেপারে কালার প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করিয়ে নিলে তা হুবহু মূল কার্ডের মতোই যেকোনো অফিশিয়াল বা দৈনন্দিন কাজে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারবেন।

৪. এসএমএস (SMS) এর মাধ্যমে এনআইডি নম্বর জানার নিয়ম

যাদের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ নেই বা অনলাইনে সরাসরি অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করতে সমস্যা হচ্ছে, তারা সাধারণ ফিচার ফোনের মাধ্যমে খুদে বার্তা বা এসএমএস পাঠিয়েও নিজ ভোটার আইডি নম্বর জেনে নিতে পারবেন।

এসএমএস পাঠানোর ফরম্যাট:

আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন:

NID <space> Form-Number <space> DD-MM-YYYY

(উদাহরণ: আপনার ফর্ম নম্বর ১২৩৪৫৬৭৮ এবং জন্মতারিখ ০১ জানুয়ারি ২০০০ হলে লিখবেন: NID 12345678 01-01-2000)

মেসেজটি পাঠিয়ে দিন 105 নম্বরে। রিটার্ন এসএমএসে নির্বাচন কমিশন থেকে আপনার ১০ ডিজিটের এনআইডি নম্বরটি জানিয়ে দেওয়া হবে। এই নম্বরটি ব্যবহার করে পরবর্তীতে খুব সহজেই অনলাইনে এনআইডি ডাউনলোড করতে পারবেন।

৫. স্মার্ট ন্যাশনাল আইডি কার্ড (Smart NID) স্ট্যাটাস চেক ২০২৬

আপনি যদি নতুন ভোটার হয়ে থাকেন বা পুরাতন এনআইডি কার্ড রি-ইস্যু কিংবা সংশোধনের আবেদন করে থাকেন, তবে আপনার স্মার্ট আইডি কার্ডটি তৈরি হয়েছে কি না তা অনলাইনে এক ক্লিকেই জেনে নেওয়া সম্ভব।

স্মার্ট কার্ডের স্ট্যাটাস জানার উপায়:

১. services.nidw.gov.bd লিংকে যান।

২. মেনু থেকে “স্মার্ট কার্ড স্ট্যাটাস” (Smart Card Status) অপশনটি নির্বাচন করুন।

৩. আপনার এনআইডি নম্বর বা ফর্ম নম্বর এবং জন্ম তারিখ প্রদান করুন।

৪. ক্যাপচা পূরণ করে সাবমিট করুন।

ফলাফল বিশ্লেষণ:

  • Complete / Card Produced: আপনার স্মার্ট প্লাস্টিক কার্ডটি প্রসেস হয়ে তৈরি হয়ে গেছে এবং বিতরণের জন্য প্রস্তুত।
  • Box ID & Compactor ID: এটি প্রদর্শিত হলে বুঝবেন আপনার স্মার্ট কার্ডটি নির্দিষ্ট বক্সে করে আপনার উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে পৌঁছে গেছে।
  • Pending / Under Process: আপনার কার্ডটি এখনও প্রিন্টিং বা প্রসেসিং তালিকায় রয়েছে।

৬. ডাউনলোড সংক্রান্ত সাধারণ সমস্যা ও সমাধান (Troubleshooting)

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা প্রায়ই কিছু সাধারণ কারিগরি জটিলতায় পড়েন। নিচে সমস্যাগুলো এবং সেগুলোর সহজ সমাধান দেওয়া হলো:

সমস্যার নামকারণসমাধান
Server Error / 502 Bad Gatewayএকই সময়ে অতিরিক্ত ইউজার পোর্টালে প্রবেশ করার কারণে।ব্রাউজারের ক্যাশ (Cache) ক্লিয়ার করুন অথবা কম ট্রাফিকের সময়ে (সকাল ৮টার আগে বা রাতে) চেষ্টা করুন।
Face Match Failedঅপর্যাপ্ত আলো বা ক্যামেরায় পরিষ্কার মুখ না আসার কারণে।পর্যাপ্ত আলোযুক্ত স্থানে গিয়ে চশমা বা ক্যাপ খুলে নতুন করে ফেস স্ক্যান করুন।
Wrong Information Errorজন্ম তারিখ বা ঠিকানা ভুল ইনপুট দিলে।নিবন্ধনের মূল তথ্য বা স্লিপের তথ্যের সাথে মিলিয়ে তথ্য ইনপুট প্রদান করুন।
Mobile OTP না পাওয়ানেটওয়ার্ক জ্যাম বা ভুল নম্বর থাকলে।কিছুটা অপেক্ষা করে ‘পুনরায় কোড পাঠান’ বাটনে চাপুন বা নম্বর পরিবর্তন করুন।

৭. আইডি কার্ড হারানো বা সংশোধনের পর আইডি কার্ড ডাউনলোড

যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ডটি হারিয়ে গিয়ে থাকে অথবা আপনি কার্ডে নাম/ঠিকানা/জন্মতারিখ সংশোধন করে থাকেন, তবে সাধারণ প্রক্রিয়ায় ফ্রী ডাউনলোড নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে করণীয়:

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ২০২৬

  1. হারানো কার্ডের ক্ষেত্রে: নিকটস্থ থানায় একটি জিডি (GD) করুন। এরপর নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে লগইন করে ‘রি-ইস্যু’ (Re-issue) অপশনে আবেদন করুন। নির্ধারিত ফি (বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে) প্রদান করার পর আবেদন অনুমোদিত হলে নতুন অনলাইন কপি ডাউনলোড করা যাবে।

  2. সংশোধিত কার্ডের ক্ষেত্রে: ভোটার তথ্যে ভুল থাকলে প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ আপলোড করে সংশোধনের ফি প্রদান করতে হয়। নির্বাচন কর্মকর্তা কর্তৃক ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংশোধন অনুমোদিত (Approved) হওয়ার সাথে সাথে সংশোধনকৃত নতুন তথ্য সম্বলিত কার্ড ডাউনলোডের সুযোগ পাবেন।

৮. অনলাইন এনআইডি ডাউনলোডের সময় নিরাপত্তা টিপস

সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং আইডি কার্ডের অপব্যবহার রোধে ডাউনলোড করার সময় নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন:

  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার: সর্বদা অফিসিয়াল সরকারি ডোমেন services.nidw.gov.bd ব্যবহার নিশ্চিত করুন। ভুয়া বা অজানা থার্ড পার্টি লিংকে এনআইডি তথ্য দেবেন না।
  • পাবলিক কম্পিউটার ও সাইবার ক্যাফে সতর্কতা: আপনি যদি কোনো সাইবার ক্যাফে বা অন্যের কম্পিউটার থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করেন, তবে কাজ শেষে ফাইলটি সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলুন (Permanent Delete) এবং ব্রাউজারের হিস্ট্রি মুছে দিন।
  • নিরাপদ স্টোরেজ: আপনার স্মার্টফোন বা পিসিতে ডাউনলোড করা পিডিএফ ফাইলটি গুগল ড্রাইভ বা পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত ফোল্ডারে সেভ রাখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর

প্রশ্ন ১: ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোডের জন্য কি কোনো ফি বা টাকা দিতে হয়?

উত্তর: না, নতুন ভোটারদের প্রথমবার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি বা পিডিএফ ডাউনলোড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়। তবে কার্ড হারিয়ে গেলে বা সংশোধন করলে নির্দিষ্ট সরকারি ফি দিতে হয়।

প্রশ্ন ২: এনআইডি ওয়ালেট অ্যাপ দিয়ে ফেস ভেরিফিকেশন না হলে করণীয় কি?

উত্তর: পর্যাপ্ত আলো আছে এমন জায়গায় যান। চোখের চশমা, টুপি বা মাস্ক থাকলে তা খুলে ফেলুন। ফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরা পরিষ্কার করে অ্যাপটি নতুন করে ওপেন করে স্ক্যান করুন।

প্রশ্ন ৩: ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে কি অনলাইন থেকে কার্ড নামানো সম্ভব?

উত্তর: স্লিপ হারিয়ে গেলে আপনার নিকটস্থ উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে আপনার নাম, বাবার নাম ও জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার তালিকায় থাকা ফরম নম্বর বা এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। তারপর সেটি দিয়ে অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যাবে।

প্রশ্ন ৪: কতদিনের মধ্যে নতুন ভোটাররা আইডি কার্ড ডাউনলোড করতে পারেন?

উত্তর: সাধারণত নতুন ভোটার নিবন্ধন ও ছবি তোলার পর ১৫ দিন থেকে ১ মাসের মধ্যে সিস্টেমে তথ্য আপডেট হয়ে যায় এবং মোবাইলে মেসেজ চলে আসে। মেসেজ পাওয়ার সাথে সাথেই তা অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা সম্ভব।

প্রশ্ন ৫: ১৮ বছরের কম বয়সীরা কি এই পদ্ধতিতে কার্ড ডাউনলোড করতে পারবে?

উত্তর: ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া সাপেক্ষে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য এনআইডি সিস্টেম কার্যকর থাকে। ১৭ বছর বয়সে নিবন্ধিতদের ১৮ বছর পূর্ণ হলে অনলাইন সিস্টেমে প্রফেশনাল এনআইডি জেনারেট হয়ে যায়।

১০. উপসংহার

ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড বা অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার সহজ ও সঠিক নিয়ম জানুন। স্লিপ নম্বর বা এনআইডি নম্বর দিয়ে ২০২৬ সালের নতুন নিয়মে স্মার্ট কার্ড পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করুন।ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সার্ভিস পোর্টাল নাগরিকদের জীবনকে অত্যন্ত সহজ করে তুলেছে। এখন আর কার্ডের কপি বা তথ্য পাওয়ার জন্য দিনের পর দিন ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয় না।

উপরোক্ত ধাপগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে আপনি যেকোনো সময় আপনার ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড (NID card download 2026) করে নিতে পারবেন। আপনার পরিবারের অন্যান্যদের তথ্য সুরক্ষায় এবং তাদের কার্ড ডাউনলোডে সহায়তায় এই গাইডলাইনটি শেয়ার করতে পারেন।

Leave a Comment