চাকরির দরখাস্ত বা আবেদন পত্র ২০২৬ হলো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি, যা প্রার্থী তার যোগ্যতা ও আগ্রহ দেখানোর জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে জমা দেয়। সুন্দরভাবে লেখা আবেদন পত্র প্রার্থীর ভাষা দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব এবং পেশাগত মনোভাব দেখায়। তাই আবেদন পত্র লেখার সঠিক নিয়ম জানা প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর জন্য খুব জরুরি। আজকের আর্টিকেলে আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানব।
আবেদন পত্র বা দরখাস্ত কী?
আবেদন পত্র বা দরখাস্ত হলো একটি Formal Letter যা কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা অন্য কোনো সুযোগের জন্য প্রেরণ করা হয়। এটি সাধারণত সংক্ষিপ্ত এবং নির্দিষ্ট কাঠামো মেনে লেখা হয়। এক্ষেত্রে একই শব্দ যেন বারবার ব্যবহার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত।
চাকরির আবেদন পত্র বা দরখাস্ত লেখার সঠিক নিয়ম
আবেদনপত্র হলো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি, তাই এর ভাষা ও বিন্যাস হতে হবে পরিষ্কার, ভদ্র এবং শুদ্ধ। সাধারণত আবেদনপত্রে নিচের অংশগুলো থাকে-
১) তারিখ: ২/০১/২০২৬ ইং
২) প্রাপকের ঠিকানা: যার কাছে আবেদন পাঠানো হচ্ছে, তার পদবি ও অফিসের ঠিকানা উল্লেখ করতে হয়।
৩) বিষয়: এক লাইনে আবেদনপত্রের মূল উদ্দেশ্য লিখতে হয়।
৪) সম্ভাষণ: “মহাশয়,” বা “স্যার,” ইত্যাদি ব্যবহৃত হয়।
৫) মূল বক্তব্য: সাধারণত তিনটি অনুচ্ছেদে লেখা হয়-
- প্রথম অনুচ্ছেদে আবেদন করার কারণ ও বিজ্ঞপ্তির সূত্র,
- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে নিজের যোগ্যতা, শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা,
- তৃতীয় অনুচ্ছেদে ভদ্রভাবে অনুরোধ ও আশা প্রকাশ করা হয়।
৬) শেষ সম্ভাষণ ও স্বাক্ষর: যেমন “বিনীত,” বা “আপনার বিশ্বস্ত,” লিখে নিজের নাম ও স্বাক্ষর দিতে হয়।
৭) সংযুক্তিঃ দরখাস্তে যে সকল ডকুমেন্ট দিয়েছেন তার তালিকা।
আরও পড়ুনঃ সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম ২০২৫
চাকরির আবেদন পত্রের নমুনা
জুনিয়র অফিসার পদে চাকরির আবেদন
২ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
প্রধান কার্যালয়, ঢাকা
বিষয়ঃ জুনিয়র অফিসার পদে আবেদন।
জনাব ,
বিনীত নিবেদন এই যে, গত ০১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, জুনিয়র অফিসার পদে সংখ্যক লোক নিয়োগ করা হবে। আমি উক্ত পদের একজন প্রার্থী হিসেবে সদয় বিবেচনার জন্য আমার যোগ্যতা সম্পর্কিত তথ্যাবলী নিম্নে উপস্থাপন করলাম।
১. নাম: মো. রাকিব ইসলাম
২. পিতার নাম: মো. জব্বার
৩. মাতার নাম: মোছা. আমেনা খাতুন
৪. স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম – চাঁদপুর, ডাকঘর – বড়ইবাড়ি, উপজেলা – দৌলতপুর, জেলা – কুষ্টিয়া
৫. বর্তমান ঠিকানা: ১২/এ, কলেজ রোড, ঢাকা
৬. মোবাইল নম্বর: ০১৭********
৭. ই-মেইল: rakib@gmail.com
৮. জন্মতারিখ: ৫ মার্চ, ১৯৯৮
৯. জাতীয়তা: বাংলাদেশী
১০. ধর্ম: ইসলাম
১১. বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত
আরও পড়ুনঃ ইতিহাস ৪র্থ অধ্যায় সাজেশন ২০২৬
শিক্ষাগত যোগ্যতা
| পরীক্ষার নাম | প্রতিষ্ঠান | বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় | পাশের বছর | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| এস.এস.সি | কুষ্টিয়া হাই স্কুল | যশোর | ২০১৪ | জিপিএ ৫.০০ |
| এইচ.এস.সি | কুষ্টিয়া কলেজ | যশোর | ২০১৬ | জিপিএ ৫.০০ |
| বিবিএ (হিসাববিজ্ঞান) | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | ঢাকা | ২০২০ | সিজিপিএ ৩.৮৫ |
অভিজ্ঞতা
- এক্সিম ব্যাংক, কুষ্টিয়া শাখায় ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ।
- অফিস ব্যবস্থাপনা ও কম্পিউটার সফটওয়্যারে দক্ষতা।
ভাষাগত দক্ষতা
-
বাংলা ও ইংরেজিতে সাবলীল।
রেফারেন্স
১. অধ্যাপক ড. “ক”, চেয়ারম্যান, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২. জনাব মো. ‘খ’, ব্যবস্থাপক, এক্সিম ব্যাংক, কুষ্টিয়া শাখা
অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন এই যে, উল্লিখিত বিষয়সমূহ বিবেচনা পূর্বক আমাকে উক্ত পদে নিয়োগ দান করলে আমি আমার মেধা ও দক্ষতা দ্বারা দায়িত্ব পালনে সর্বদা সচেষ্ট থাকবো।
বিনীত নিবেদক,
‘খ’ ( আপনার স্বাক্ষর দিতে হবে)
সংযুক্তিঃ
- সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি (২ কপি)
- ব্যাংক ড্রাফট
- চারিত্রিক ও নাগরিকত্ব সনদের সত্যায়িত কপি
আবেদন পত্র লেখার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
১) বানান ও ব্যাকরণ ভুল যেন না থাকে
২) ভাষা হোক সংক্ষিপ্ত, ভদ্র ও প্রাঞ্জল
৩) “আমি” শব্দের ব্যবহার সীমিত রাখো
৪) আবেদনপত্রে অতিরিক্ত তথ্য না দেওয়া
৫) জীবনবৃত্তান্ত পরিষ্কারভাবে ফরম্যাট করো
আরও পড়ুনঃ এসএসসি ২০২৬ ইতিহাস ষষ্ঠ অধ্যায় সাজেশন ১০০% কমন
এনজিও চাকরির আবেদন পত্র
ব্র্যাক (BRAC) এনজিও চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম / আশা এনজিও চাকরির আবেদন পত্র লেখার
তারিখ: ২ জানুয়ারি, ২০২৬
নির্বাহী পরিচালক
ব্র্যাক বাংলাদেশ
প্রধান কার্যালয়, ঢাকা
বিষয়: ফিল্ড অফিসার পদে আবেদন।
মহাশয়,
দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে জানতে পারি যে, আপনার প্রতিষ্ঠানে “ফিল্ড অফিসার” পদে কিছু শূন্যপদ রয়েছে। আমি উক্ত পদে আবেদন জানাচ্ছি।
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি। গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে দুই বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে আগ্রহী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অতএব, আমার আবেদনটি সদয় বিবেচনা করে আমাকে ফিল্ড অফিসার পদে নিয়োগের সুযোগ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
বিনীত,
(স্বাক্ষর)
নামঃ
মোবাইল: ০১৭********
ই-মেইল: rakib@gmail.com
জীবনবৃত্তান্ত (Curriculum Vitae)
ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)
নাম:
পিতার নাম:
মাতার নাম:
স্থায়ী ঠিকানা:
বর্তমান ঠিকানা:
মোবাইল: ০১৭********
ই-মেইল:
জন্মতারিখ:
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
বৈবাহিক অবস্থা:
শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Qualification)
| পরীক্ষার নাম | প্রতিষ্ঠান | বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় | পাশের বছর | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| এস.এস.সি | কুষ্টিয়া হাই স্কুল | যশোর | ২০১৩ | জিপিএ ৫.০০ |
| এইচ.এস.সি | কুষ্টিয়া কলেজ | যশোর | ২০১৫ | জিপিএ ৫.০০ |
| বি.এস.এস (সমাজবিজ্ঞান) | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | ঢাকা | ২০১৯ | সিজিপিএ ৩.৭৫ |
| এম.এস.এস (সমাজবিজ্ঞান) | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | ঢাকা | ২০২১ | সিজিপিএ ৩.৮০ |
কর্ম অভিজ্ঞতা (Work Experience)
ফিল্ড অফিসার -গ্রামীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (২০২১ – ২০২৩)
- দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন প্রকল্পে মাঠ পর্যায়ে কাজ
- মহিলা ও শিশু উন্নয়ন কর্মসূচিতে সমন্বয়
- প্রকল্প প্রতিবেদন ও তথ্য সংগ্রহে দক্ষতা অর্জন
কম্পিউটার ও ভাষাগত দক্ষতা (Skills)
- মাইক্রোসফট অফিস (Word, Excel, PowerPoint), ইন্টারনেট ও ই-মেইল ব্যবহারে পারদর্শী
- বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সাবলীল
ব্যক্তিগত গুণাবলি (Personal Qualities)
- সমাজসেবামূলক কাজে আগ্রহী
- দলগতভাবে কাজের মানসিকতা
- নেতৃত্ব ও যোগাযোগ দক্ষতা
- সৎ, দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী
আরও পড়ুনঃ এসএসসি ২০২৬ ইতিহাস ৮ম অধ্যায় সাজেশন
রেফারেন্স (Reference)
১.
২.
সংযুক্তিঃ
১. জীবনবৃত্তান্ত (Bio-data / CV)
২. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের কপি
৩. অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে)
৪. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
৫. ছবি (১ কপি)
কোম্পানির চাকরির আবেদন পত্র
তারিখ:
৬ অক্টোবর, ২০২৬
প্রাপকের ঠিকানা:
মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক
গ্লোবাল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড
ঢাকা
বিষয়: অফিস সহকারী পদে আবেদন।
মহাশয়,
দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে জানতে পারি যে, আপনার প্রতিষ্ঠানে অফিস সহকারী পদে কয়েকজন দক্ষ প্রার্থী নিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আমি উক্ত পদে আবেদন জানাচ্ছি।
আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা (Management) বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছি। অফিস ব্যবস্থাপনা, ডকুমেন্ট হ্যান্ডলিং ও কম্পিউটার পরিচালনায় আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি দায়িত্বশীল, পরিশ্রমী এবং অফিসের কার্যক্রমে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার মানসিকতা রাখি।
অতএব, আমার আবেদনটি সদয় বিবেচনা করে আমাকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগের সুযোগ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
বিনীত,
(স্বাক্ষর)
মো. রাকিবুল ইসলাম
মোবাইল: ০১৭********
ই-মেইল: rakib@gmail.com
আরও পড়ুনঃ শিক্ষা ক্ষেত্রে AI এর ব্যবহার
জীবনবৃত্তান্ত (Curriculum Vitae)
ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)
নাম:
পিতার নাম:
মাতার নাম:
স্থায়ী ঠিকানা:
বর্তমান ঠিকানা:
মোবাইল: *
ই-মেইল:
জন্মতারিখ: ১০ এপ্রিল, ১৯৯৭
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত
শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Qualification)
| পরীক্ষার নাম | প্রতিষ্ঠান | বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় | পাশের বছর | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| এস.এস.সি | কুষ্টিয়া হাই স্কুল | যশোর | ২০১৩ | জিপিএ ৫.০০ |
| এইচ.এস.সি | কুষ্টিয়া কলেজ | যশোর | ২০১৫ | জিপিএ ৪.৮০ |
| বিবিএ (ব্যবস্থাপনা) | রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | রাজশাহী | ২০১৯ | সিজিপিএ ৩.৬০ |
কর্ম অভিজ্ঞতা (Work Experience)
অফিস সহকারী – গ্লোবাল ট্রেডিং কোম্পানি (২০২০ – ২০২৩)
- অফিস ফাইল, চিঠিপত্র ও রিপোর্ট পরিচালনা
- দৈনন্দিন প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান
- ক্লায়েন্টদের সাথে যোগাযোগ ও ডেটা ম্যানেজমেন্ট
ইন্টার্ন -ব্র্যাক হেড অফিস (২০১৯)
- ডেটা এন্ট্রি ও ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা
- অফিস সফটওয়্যার ব্যবহারে অভিজ্ঞতা অর্জন
দক্ষতা (Skills)
- এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ারপয়েন্ট, ইন্টারনেট ব্যবহারে দক্ষ
- দ্রুত টাইপিং (বাংলা ও ইংরেজি)
- যোগাযোগ দক্ষতা ও দলগতভাবে কাজের মানসিকতা
ব্যক্তিগত গুণাবলি (Personal Qualities)
- দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী
- সময়ানুবর্তী ও সংগঠিত
- অফিসিয়াল কাজে যত্নবান
- শেখার আগ্রহ ও পেশাগত মনোভাব
রেফারেন্স (Reference)
১. জনাব ——
ম্যানেজার (অপারেশনস), গ্লোবাল ট্রেডিং কোম্পানি
মোবাইল: ০১৭********
২. —–
প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল: ০১৮********
ঘোষণা (Declaration)
আমি এই মর্মে ঘোষণা করছি যে, উপরোল্লিখিত তথ্যাবলি সম্পূর্ণ সত্য ও যথাযথ।
স্বাক্ষর: ___________________
তারিখ: ___________________
সংযুক্তিঃ
১. জীবনবৃত্তান্ত (Bio-data / CV)
২. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের কপি
৩. অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে)
৪. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
৫. ছবি (১ কপি)
আরও পড়ুনঃ জাতীয় দিবস উদযাপন
সরকারি চাকরির আবেদন পত্র
তারিখ:
2 জানুয়ারি, ২০২৬
মাননীয় জেলা প্রশাসক
মানবসম্পদ শাখা
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
বিষয়: অফিস সহকারী পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।
মহাশয়,
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির সূত্র ধরে জানতে পারি যে, আপনার দপ্তরে অফিস সহকারী পদে কিছু শূন্যপদ রয়েছে। আমি উক্ত পদে নিয়োগের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
আমি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছি এবং বর্তমানে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে স্নাতক অধ্যয়নরত। আমি পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। তাছাড়া, অফিস ব্যবস্থাপনা ও কম্পিউটার ব্যবহারে আমার মৌলিক জ্ঞান রয়েছে।
অতএব, আমার আবেদনটি সদয় বিবেচনা করে আমাকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগের সুযোগ দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
বিনীত,
(স্বাক্ষর)
নাম–
জীবনবৃত্তান্ত (Curriculum Vitae)
ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Information)
নাম:
পিতার নাম:
মাতার নাম:
স্থায়ী ঠিকানা:
বর্তমান ঠিকানা:
মোবাইল: *
ই-মেইল:
জন্মতারিখ: ১০ এপ্রিল, ১৯৯৭
জাতীয়তা: বাংলাদেশী
ধর্ম: ইসলাম
বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত
শিক্ষাগত যোগ্যতা (Educational Qualification)
| পরীক্ষার নাম | প্রতিষ্ঠান | বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় | পাশের বছর | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| এস.এস.সি | কুষ্টিয়া হাই স্কুল | যশোর | ২০১৩ | জিপিএ ৫.০০ |
| এইচ.এস.সি | কুষ্টিয়া কলেজ | যশোর | ২০১৫ | জিপিএ ৪.৮০ |
| বিবিএ (ব্যবস্থাপনা) | রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | রাজশাহী | ২০১৯ | সিজিপিএ ৩.৬০ |
কর্ম অভিজ্ঞতা (Work Experience)
অফিস সহকারী – গ্লোবাল ট্রেডিং কোম্পানি (২০২০ – ২০২৩)
সংযুক্তিঃ
১. জীবনবৃত্তান্ত (Bio-data)
২. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সত্যায়িত কপি
৩. অভিজ্ঞতার সনদ (যদি থাকে)
৪. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
৫. সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি
আরও পড়ুনঃ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ai : ব্যবহার, প্রয়োজনীয়তা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ব্যক্তিগত দরখাস্তের নমুনা
ছুটির জন্য আবেদন পত্র
তারিখঃ ০৭/১০/২০২৫
বরাবর
প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা,
[তোমার স্কুলের নাম],
[স্কুলের ঠিকানা]।
বিষয়: ছুটির জন্য আবেদন।
জনাব/জনাবা,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের [তোমার শ্রেণি]-এর ছাত্র/ছাত্রী [তোমার নাম]। আমি [অসুস্থতা/পারিবারিক প্রয়োজনে/নিজের কাজে] কারণে [শুরুর তারিখ] থেকে [শেষ তারিখ] পর্যন্ত মোট [দিনের সংখ্যা] দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারব না।
অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমাকে উক্ত [দিনের সংখ্যা] দিনের ছুটি দেওয়ার অনুমতি দানে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক,
[তোমার নাম]
শ্রেণি: [তোমার শ্রেণি]
রোল নম্বর: [রোল নম্বর]
বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন পত্র
তারিখঃ ২/০১/২৬
বরাবর
প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা,
[বিদ্যালয়ের নাম],
[বিদ্যালয়ের ঠিকানা]।
বিষয়: বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদন।
জনাব/জনাবা,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের [শ্রেণি]-এর ছাত্র/ছাত্রী [তোমার নাম]। আমার পিতা/অভিভাবক একজন [পেশা—যেমন, দিনমজুর/চাষি/স্বল্প আয়ের কর্মচারী]। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি ঘটায় আমার পক্ষে বিদ্যালয়ের মাসিক বেতন প্রদান করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমি মনোযোগসহকারে নিয়মিত পাঠ্যক্রমে অংশগ্রহণ করছি এবং সব বিষয়ে ভালো ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করছি।
অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমাকে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রদান করে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক,
[তোমার নাম]
শ্রেণি: [তোমার শ্রেণি]
রোল নম্বর: [তোমার রোল নম্বর]
দারিদ্র্য তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন পত্র
তারিখঃ
বরাবর
প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা,
[বিদ্যালয়ের নাম],
[বিদ্যালয়ের ঠিকানা]।
বিষয়: দারিদ্র্য তহবিল থেকে আর্থিক সাহায্য প্রার্থনা।
জনাব/জনাবা,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের [শ্রেণি]-এর ছাত্র/ছাত্রী [তোমার নাম]। আমার পিতা/অভিভাবক একজন [পেশা—যেমন, দিনমজুর/চাষি/অল্প আয়ের কর্মচারী]। আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল, যার ফলে আমার শিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকি এবং পাঠ্যক্রমে যথাসাধ্য মনোযোগ দিয়ে ভালো ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করি।
অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমাকে বিদ্যালয়ের দারিদ্র্য তহবিল থেকে উপযুক্ত আর্থিক সাহায্য প্রদান করে আমার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার সুযোগ দানে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক,
[তোমার নাম]
শ্রেণি: [তোমার শ্রেণি]
রোল নম্বর: [রোল নম্বর]
পাঠাগার স্থাপনের জন্য আবেদন পত্র
তারিখঃ
বরাবর
প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা,
[বিদ্যালয়ের নাম],
[বিদ্যালয়ের ঠিকানা]।
বিষয়: পাঠাগার স্থাপনের জন্য আবেদন।
জনাব/জনাবা,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমাদের বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পাঠ্যবই থাকলেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও মনন বিকাশের জন্য একটি পৃথক পাঠাগার (লাইব্রেরি) অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে কোনো পাঠাগার না থাকায় আমরা বইপত্র, সাময়িকী ও তথ্যবহুল গ্রন্থাদি পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যদি বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপন করা হয়, তবে শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে এবং তাদের জ্ঞানচর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানও বৃদ্ধি পাবে।
অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমাদের বিদ্যালয়ে একটি পাঠাগার স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কৃপা করবেন।
বিনীত নিবেদক,
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষে,
[তোমার নাম]
শ্রেণি: [তোমার শ্রেণি]
রোল নম্বর: [রোল নম্বর]
ছাড়পত্রের জন্য আবেদন পত্র
তারিখঃ
প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা,
[বিদ্যালয়ের নাম],
[বিদ্যালয়ের ঠিকানা]।
বিষয়: ছাড়পত্রের জন্য আবেদন।
জনাব/জনাবা,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের [শ্রেণি]-এর ছাত্র/ছাত্রী [তোমার নাম]। পারিবারিক কারণে/অন্যত্র ভর্তি হওয়ার কারণে আমি আর আপনার বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে পারছি না। এমতবস্থায় আমার ছাড়পত্র দরকার।
অতএব, জনাবের নিকট আকুল আবেদন এই যে, আমাকে ছাড়পত্র (Transfer Certificate) প্রদান করার অনুমতি দানে বাধিত করবেন।
বিনীত নিবেদক,
[তোমার নাম]
শ্রেণি: [তোমার শ্রেণি]
রোল নম্বর: [তোমার রোল নম্বর]
অভিভাবকের স্বাক্ষর:
শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতির জন্য আবেদন পত্র
তারিখ:
প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা,
[বিদ্যালয়ের নাম],
[বিদ্যালয়ের ঠিকানা]।
বিষয়: শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতির জন্য আবেদন।
জনাব/জনাবা,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমাদের বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে [স্থান নাম, যেমন-কক্সবাজার, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর ইত্যাদি]-এ একটি শিক্ষাসফর আয়োজন করা হয়েছে। আমি আপনার বিদ্যালয়ের [শ্রেণি]-এর ছাত্র/ছাত্রী [তোমার নাম]। আমি ওই শিক্ষাসফরে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক।
অতএব, বিনীত অনুরোধ করছি আমাকে শিক্ষাসফরে অংশগ্রহণের জন্য অনুমতি প্রদান করার কৃপা করবেন। আপনার সদয় অনুমতির জন্য চিরকৃতজ্ঞ থাকব।
বিনীত নিবেদক,
[তোমার নাম]
শ্রেণি: [তোমার শ্রেণি]
রোল নম্বর: [রোল নম্বর]
আরও পড়ুনঃ শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট একটি আবেদনপত্র লেখো।
আবেদন পত্র সম্পর্কিত (FAQ)
১️. প্রশ্ন: আবেদন পত্র কী?
উত্তর: আবেদন পত্র হলো কোনো বিষয় বা অনুরোধ জানাতে কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা একটি আনুষ্ঠানিক পত্র।
২️. প্রশ্ন: আবেদন পত্রের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: কোনো প্রয়োজন বা সমস্যার সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে আবেদন জানানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
৩️. প্রশ্ন: আবেদন পত্রের প্রধান অংশ কয়টি?
উত্তর: সাধারণত আবেদন পত্রের ৫টি প্রধান অংশ থাকে—
- প্রাপক
- বিষয়
- মূল আবেদন
- ধন্যবাদ জ্ঞাপন
- আবেদনকারীর নাম ও তথ্য
৪️. প্রশ্ন: আবেদন পত্র কাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়?
উত্তর: আবেদন পত্র সাধারণত কোনো কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে (যেমন প্রধান শিক্ষক, অফিসার, ব্যবস্থাপক ইত্যাদি) উদ্দেশ্য করে লেখা হয়।
৫️. প্রশ্ন: আবেদন পত্রে “বিষয়” অংশের ভূমিকা কী?
উত্তর: “বিষয়” অংশে সংক্ষেপে আবেদনটির মূল উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয় যাতে পাঠক দ্রুত বুঝতে পারেন পত্রটি সম্পর্কে।
৬️. প্রশ্ন: আবেদন পত্রে ভাষার ধরন কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর: ভাষা হতে হবে শুদ্ধ, সংক্ষিপ্ত, বিনীত ও আনুষ্ঠানিক।
৭️. প্রশ্ন: আবেদন পত্র ও ব্যক্তিগত চিঠির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর:
- আবেদন পত্রে ভাষা আনুষ্ঠানিক হয় এবং উদ্দেশ্য হয় কোনো অনুরোধ জানানো।
- ব্যক্তিগত চিঠি হয় অনানুষ্ঠানিক ও আবেগপূর্ণ।
৮️. প্রশ্ন: আবেদন পত্রের শেষে কী লেখা হয়?
উত্তর: আবেদন পত্রের শেষে “বিনীত”, “ধন্যবাদান্তে” বা “আপনার আজ্ঞাবহ” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়।
৯️. প্রশ্ন: স্কুলের ছাত্রদের সাধারণত কী ধরনের আবেদন পত্র লিখতে হয়?
উত্তর:
যেমন –
- ছুটির জন্য আবেদন
- ছাড়পত্রের জন্য আবেদন
- দারিদ্র্য তহবিল থেকে সাহায্যের আবেদন
- শিক্ষাসফরে অংশগ্রহণের অনুমতির আবেদন
- বিনা বেতনে অধ্যয়নের আবেদন ইত্যাদি।
আরও পড়ুনঃ ছুটির জন্য আবেদন
১০. প্রশ্ন: আবেদন পত্র লেখার সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হয়?
উত্তর:
- সঠিক ঠিকানা ও তারিখ লিখতে হবে।
- বিষয় স্পষ্ট হতে হবে।
- ব্যাকরণ ও বানান ভুল থাকা যাবে না।
- বিনীত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করতে
উপসংহার
চাকরির আবেদন পত্র বা দরখাস্ত হলো তোমার প্রথম ইমপ্রেশন। তাই এটি হতে হবে পরিপাটি, সংক্ষিপ্ত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ। একটি সুন্দরভাবে লেখা আবেদনপত্র ও জীবনবৃত্তান্ত তোমার যোগ্যতাকে তুলে ধরে এবং নিয়োগকর্তার কাছে তোমাকে আলাদা করে উপস্থাপন করে।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষাসফরে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে প্রধান শিক্ষকের নিকট একটি আবেদনপত্র লেখো।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি মোঃ আনোয়ার হোসেন, পেশায় একজন শিক্ষক এবং অনলাইন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। নিত্য নতুন কন্টেন্ট পেতে shikkhatech24.com ওয়েবসাইটটি সাবস্ক্রাইব এবং ফেইসবুকে শেয়ার করুন।