পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৬, নতুন পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে? বাংলাদেশে বিদেশ ভ্রমণ, চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য পাসপোর্ট এখন অপরিহার্য একটি নথি। আগে হাতে লেখা বা MRP (Machine Readable Passport) ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে সরকার চালু করেছে আধুনিক e-Passport, যা ইলেকট্রনিক চিপের মাধ্যমে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করে। ২০২৬ সালে পাসপোর্ট করার নিয়ম আগের তুলনায় অনেক সহজ ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল হয়েছে। এখন ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন, ফি প্রদান এবং নির্ধারিত তারিখে অফিসে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করলেই আপনি পাসপোর্ট পেতে পারেন।
পাসপোর্টের ধরন ও মেয়াদ
বর্তমানে বাংলাদেশে শুধুমাত্র e-Passport (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) ইস্যু করা হয়। আগে হাতে লেখা এবং MRP (Machine Readable Passport) ব্যবহৃত হলেও, এখন সব আবেদনকারীকেই e-Passport দেওয়া হচ্ছে। এই আধুনিক পাসপোর্টে একটি মাইক্রোচিপ থাকে, যেখানে আপনার ছবি, আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিস ও স্বাক্ষরসহ সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকে।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম ২০২৫
বাংলাদেশে e-Passport মূলত পৃষ্ঠা সংখ্যা ও মেয়াদ অনুযায়ী দুই ভাগে বিভক্ত।
প্রথমত, পৃষ্ঠা সংখ্যা অনুযায়ী দুটি ধরন আছে-
৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: এটি সাধারণ নাগরিক বা যাদের বছরে এক-দুইবার বিদেশ যাত্রা থাকে, তাদের জন্য উপযুক্ত।
৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট: এটি নিয়মিত বিদেশযাত্রী, ব্যবসায়ী, প্রবাসী বা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ এতে বেশি ভিসা স্ট্যাম্পের জায়গা থাকে।
দ্বিতীয়ত, মেয়াদ অনুযায়ী পাসপোর্ট দু’ধরনের হতে পারে-
৫ বছর মেয়াদী এবং ১০ বছর মেয়াদী। ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়, আর ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারকারীদের জন্য বেশি কার্যকর।
প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও e-Passport ইস্যু করা হয়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট দেওয়া হয় এবং আবেদন করতে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিশুর জন্ম নিবন্ধন জমা দিতে হয়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনি যদি নিয়মিত বিদেশে যাতায়াত করেন, তাহলে ৬৪ পৃষ্ঠা ও ১০ বছর মেয়াদী e-Passport নেওয়াই সবচেয়ে ভালো। আর যদি মাঝে মাঝে ভ্রমণ করেন, তাহলে ৪৮ পৃষ্ঠা ও ৫ বছর মেয়াদী পাসপোর্টই যথেষ্ট।
নতুন পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৬
২০২৬ সালে নতুন পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া এখন পুরোপুরি অনলাইন-ভিত্তিক ও সহজলভ্য। আপনি ঘরে বসেই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং নির্ধারিত সময়ে অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করলেই পাসপোর্ট হাতে পাবেন। নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিতভাবে নতুন পাসপোর্ট করার নিয়ম তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুনঃ সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম ২০২৫
প্রথম ধাপে আপনাকে যেতে হবে বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://www.epassport.gov.bd এখানে “Apply for a new e-Passport” অপশনটি নির্বাচন করুন। এরপর আপনার জেলা, থানা এবং পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করতে হবে।
এরপর আবেদন ফর্মে নিজের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, পিতা-মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ইত্যাদি তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। তথ্য পূরণের সময় কোনো বানান ভুল যেন না হয়, কারণ এই তথ্যগুলোই পাসপোর্টে মুদ্রিত হবে।
ফর্ম পূরণের পর আপনাকে পাসপোর্টের ধরন (৪৮ বা ৬৪ পৃষ্ঠা) ও মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর) নির্বাচন করতে হবে। এরপর “Delivery Type” অপশনে Regular, Express বা Super Express সার্ভিস বেছে নিতে পারবেন। Regular সার্ভিসে সময় বেশি লাগে, তবে খরচ কম; আর Express বা Super Express সার্ভিসে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া যায়, তবে ফি কিছুটা বেশি।
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আবেদন সাবমিট করলে একটি Application Summary তৈরি হবে। এটি অবশ্যই প্রিন্ট করে রাখতে হবে, কারণ পাসপোর্ট অফিসে সাক্ষাৎকারের সময় এটি দরকার হয়।
আবেদন জমা দেওয়ার পরপরই আপনাকে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। ফি পরিশোধ করা যায় ব্যাংকের মাধ্যমে (সোনালী ব্যাংক বা অগ্রণী ব্যাংক) অথবা অনলাইনে bKash, Rocket, Nagad ইত্যাদির মাধ্যমে। ফি প্রদান শেষে একটি রসিদ বা ট্রান্সাকশন আইডি প্রিন্ট করে রাখতে হবে।
আরও পড়ুনঃ চাকরির দরখাস্ত : আবেদন পত্র লেখার সঠিক নিয়ম ২০২৫
এরপর নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সেখানে কর্মকর্তারা আপনার আবেদন যাচাই করবেন এবং আঙুলের ছাপ, ছবি ও স্বাক্ষর সংগ্রহ করবেন। সবশেষে আপনি একটি Delivery Slip পাবেন, যেখানে আপনার পাসপোর্ট ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ থাকবে।
পরে আপনার তথ্য যাচাইয়ের জন্য পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই (Verification) করতে পারে। যাচাই শেষ হলে পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে আপনি মোবাইলে একটি SMS পাবেন। এসএমএস পাওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে Delivery Slip দেখিয়ে আপনার নতুন e-Passport সংগ্রহ করতে পারবেন।
২০২৬ সালে e-Passport প্রক্রিয়াটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক দ্রুত, সহজ এবং নিরাপদ। সব ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করলে Regular সার্ভিসে সাধারণত ১৫–২১ দিনের মধ্যে এবং Express সার্ভিসে ৭–১০ দিনের মধ্যেই আপনি নতুন পাসপোর্ট হাতে পেতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ রিজাইন লেটার লেখার নিয়ম
২০২৬ সালে পাসপোর্ট করার ফি তালিকা
২০২৫ সালের সর্বশেষ ফি কাঠামো নিচে দেওয়া হলো-
-
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদ, Regular – ৳৪,০২৫
-
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদ, Express – ৳৬,৩২৫
-
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ, Regular – ৳৫,৭৫০
-
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ, Express – ৳৮,০৫০
-
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদ, Regular – ৳৬,৩২৫
-
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদ, Express – ৳৮,৬২৫
-
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ, Regular – ৳৮,০৫০
-
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ, Express – ৳১০,৩৫০
কিছু অফিসে Super Express সুবিধা রয়েছে যেখানে মাত্র ১-৩ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়, তবে এর ফি প্রায় ৳১২,৬৫০ পর্যন্ত হতে পারে।
বিদেশে পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ ২০২৬
যারা প্রবাসে আছেন এবং তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা নতুন পাসপোর্ট করতে চান, তারা নিজ নিজ বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন এর মাধ্যমে e-Passport এর জন্য আবেদন করতে পারেন। ২০২৫ সালে প্রবাসীদের জন্য এই প্রক্রিয়াটিও সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে, ফলে এখন বিদেশে থেকেও পাসপোর্ট আবেদন করা আগের তুলনায় অনেক সহজ।
আরও পড়ুনঃ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন
প্রথমেই আবেদনকারীকে যেতে হবে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://www.epassport.gov.bd – এ। সেখানে “Apply from Mission” অপশনটি নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে। এরপর প্রবাসী যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের বাংলাদেশ মিশন (Embassy বা Consulate) নির্বাচন করতে হবে।
অনলাইন ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর (যদি পুরনো পাসপোর্ট থাকে), প্রবাসী ঠিকানা এবং বাংলাদেশে স্থায়ী ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়।
আবেদন সম্পন্ন করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Application Summary, NID বা জন্মসনদ, পুরনো পাসপোর্ট, রসিদ ইত্যাদি) দূতাবাসে জমা দিতে হয়। দূতাবাসে গিয়ে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ এবং স্বাক্ষর দিতে হয়। সবকিছু ঠিক থাকলে তথ্য যাচাইয়ের পর দূতাবাস থেকে নতুন e-Passport ইস্যু করা হয় এবং সেটি ডাক বা কুরিয়ারের মাধ্যমে আবেদনকারীর কাছে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুনঃ অনলাইন শিক্ষার ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাব্যবস্থার নতুন দিগন্ত
এখন আসুন দেখা যাক, বিদেশে পাসপোর্ট করার জন্য ২০২৬ সালের ফি কাঠামো কী রকম —
-
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদ: Regular – $110, Express – $165
-
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ: Regular – $137.50, Express – $192.50
-
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর মেয়াদ: Regular – $165, Express – $220
-
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর মেয়াদ: Regular – $192.50, Express – $247.50
এই ফি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসভেদে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু দেশে স্থানীয় ব্যাংক চার্জ বা ভ্যাটও যোগ হতে পারে। আবেদনকারীরা ফি প্রদান করতে পারেন ব্যাংক ড্রাফট, মানি অর্ডার অথবা দূতাবাসে অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে।
প্রবাসী শ্রমিক, ছাত্র বা স্বল্প আয়ের আবেদনকারীদের জন্য অনেক মিশনে বিশেষ ছাড়মূল্য প্রযোজ্য হয়। যেমন, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে পাসপোর্ট ফি কিছুটা কম নির্ধারিত রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ চাকরির পদোন্নতির আবেদন পত্র লেখার নিয়ম ২০২৫
বিদেশে পাসপোর্ট আবেদন করলে সাধারণত ৩০–৪৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়। তবে কিছু দেশে এই সময় আরও কম বা বেশি হতে পারে, দূতাবাসের সার্ভিস ক্ষমতা ও যাচাই প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।
সবশেষে মনে রাখবেন, বিদেশে আবেদন করলেও আপনার NID বা জন্ম নিবন্ধনের তথ্য বাংলাদেশের তথ্যভান্ডারে (National Database) এর সাথে মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের কোনো অমিল থাকলে আবেদন বিলম্বিত বা বাতিল হতে পারে।
নতুন পাসপোর্ট করতে কত কি কি লাগে ২০২৬
২০২৬ সালে বাংলাদেশে নতুন ই-পাসপোর্ট (e-Passport) করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। তবে আবেদন করার আগে জানা দরকার, পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে এবং মোট কত টাকা খরচ হয়। অনলাইন ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে ছবি তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র ও ফি প্রয়োজন হয়।
প্রথমেই, পাসপোর্ট করতে গেলে আবেদনকারীর একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে। ১৮ বছরের নিচে হলে এর পরিবর্তে জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগবে। এছাড়াও, যাদের আগে পুরনো পাসপোর্ট ছিল, তাদের সেটির কপিও সঙ্গে নিতে হয়। শিশুর ক্ষেত্রে পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট কপি জমা দিতে হয়। অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণের পর যেটি প্রিন্ট হয়, সেটি Application Summary Form হিসেবে জমা দিতে হয় এবং অবশ্যই আবেদনকারীর স্বাক্ষর থাকতে হয়।
আরও পড়ুনঃ ছেলে শিশুদের বাছাই করা সুন্দর ইসলামিক নামের তালিকা বাংলা অর্থসহ ২০২৫
এর পাশাপাশি, ফি জমা দেওয়ার ব্যাংক রসিদ (Payment Slip), স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ (যেমন বিদ্যুৎ বিল বা টেলিফোন বিল) এবং প্রয়োজনে অফিস আইডি বা ছাত্র আইডি সংযুক্ত করা যেতে পারে। সব কাগজপত্রের মূল কপি ও ফটোকপি দুইটাই সঙ্গে রাখাই ভালো, কারণ যাচাইয়ের সময় উভয় প্রয়োজন হতে পারে।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)-পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৬
প্রশ্ন ১: অনলাইনে আবেদন করলে কি সরাসরি পাসপোর্ট পাওয়া যায়?
না, অনলাইনে কেবল আবেদন ও পেমেন্ট করা যায়। পরে অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিতে হয়।
প্রশ্ন ২: পাসপোর্টে নাম বা জন্ম তারিখ ভুল হলে কী করব?
তথ্য সংশোধনের জন্য আগে NID বা জন্মসনদে সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে হবে।
প্রশ্ন ৩: পুরনো MRP পাসপোর্ট দিয়ে কি বিদেশ যাওয়া যায়?
হ্যাঁ, মেয়াদ থাকা পর্যন্ত যেতে পারবেন। তবে নবায়নের সময় e-Passport নিতে হবে।
প্রশ্ন ৪: শিশুদের পাসপোর্টে কত মেয়াদ থাকে?
সাধারণত ৫ বছর মেয়াদ দেওয়া হয়, ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত।
প্রশ্ন ৫: ফি দিলে আবেদন বাতিল হলে টাকা ফেরত পাওয়া যায় কি?
না, ফি ফেরতযোগ্য নয়।
প্রশ্ন ৬: নতুন পাসপোর্ট করতে কত দিন লাগে?
সাধারণত রেগুলার ডেলিভারি পাসপোর্ট পেতে সময় লাগে প্রায় ২১ কার্যদিবস, আর এক্সপ্রেস ডেলিভারি তে সময় লাগে ৭ কার্যদিবস। তবে অফিসের ব্যস্ততা, তথ্য যাচাই বা কোনো ত্রুটি থাকলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।
প্রশ্ন ৭: পাসপোর্ট করার জন্য কি অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, এখন অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক। আবেদনকারীকে ওয়েবসাইটে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে হয়, তারপর নির্ধারিত অফিসে গিয়ে ছবি ও আঙুলের ছাপ দিতে হয়।
প্রশ্ন ৮: পাসপোর্ট করার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন কত দিনে হয়?
সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার পর ৫–১০ দিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়। পুলিশ আবেদনকারীর স্থায়ী ঠিকানা যাচাই করে রিপোর্ট পাঠায়। তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকলে প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।
প্রশ্ন ৯: শিশুদের জন্য পাসপোর্ট করতে কী লাগে?
শিশুর ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট কপি, এবং একটি সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি জমা দিতে হয়। শিশুর পাসপোর্ট সাধারণত ৫ বছর মেয়াদী হয়।
প্রশ্ন ১০: পাসপোর্টে নামের বানান ভুল হলে কী করতে হবে?
যদি পাসপোর্টে নামের বানান ভুল থাকে, তাহলে তথ্য সংশোধনের আবেদন (Correction Application) করতে হবে। এ জন্য NID বা জন্মসনদের সঠিক তথ্য অনুযায়ী প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।
প্রশ্ন ১১: হারানো পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট কিভাবে পাওয়া যায়?
প্রথমে স্থানীয় থানায় জিডি (General Diary) করতে হবে। এরপর অনলাইনে “Lost Passport” অপশন সিলেক্ট করে আবেদন করতে হয় এবং পুরনো পাসপোর্ট নম্বর ও জিডি কপির স্ক্যান সংযুক্ত করতে হয়।
প্রশ্ন ১২: মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পাসপোর্ট নবায়ন করা যায় কি?
হ্যাঁ, মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস আগেই আপনি পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করতে পারেন। পুরনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে এবং নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে পুরনোটি বাতিল হয়ে যাবে।
প্রশ্ন ১৩: পাসপোর্টের ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে কি?
অবশ্যই যাবে। আপনি যদি নতুন ঠিকানায় বসবাস শুরু করেন, তাহলে “Address Change” অপশন সিলেক্ট করে নতুন ঠিকানার প্রমাণপত্রসহ আবেদন করতে পারেন।
প্রশ্ন ১৪: পাসপোর্ট ফি কি ফেরতযোগ্য?
না, একবার ফি জমা দেওয়ার পর ফেরতযোগ্য নয়। তাই আবেদন করার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ আবেদন বাতিল হলে ফি ফেরত পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন ১৫: বিদেশে থাকলে পাসপোর্ট নবায়ন কিভাবে করবো?
বিদেশে থাকা প্রবাসীরা নিজ দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন এর মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারেন। অনলাইনে আবেদন করে দূতাবাসে ছবি, আঙুলের ছাপ ও কাগজ জমা দিলেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ফি দেশের ভিত্তিতে $110–$247.50 এর মধ্যে হয়ে থাকে।
উপসংহার
২০২৬ সালে নতুন পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও সহজ। অনলাইনে আবেদন, ফি প্রদান এবং নির্ধারিত তারিখে বায়োমেট্রিক দিলেই আপনি স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিজের e-Passport হাতে পাবেন। আবেদন করার আগে সব তথ্য যাচাই করে নিন এবং কাগজপত্রে বানান একরকম রাখুন। সঠিকভাবে আবেদন করলে ৭–১৫ দিনের মধ্যেই পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ
২) নতুন পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?
৩) নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমি মোঃ আনোয়ার হোসেন, পেশায় একজন শিক্ষক এবং অনলাইন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। নিত্য নতুন কন্টেন্ট পেতে shikkhatech24.com ওয়েবসাইটটি সাবস্ক্রাইব এবং ফেইসবুকে শেয়ার করুন।